darbiya
darbiya
উমরাহ · পড়তে ৪ মিনিট

বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটে মিকাত ও ইহরাম

ঢাকা থেকে জেদ্দার ফ্লাইটে নামার প্রায় ২০ মিনিট আগে আকাশেই মিকাত পার হতে হয়। কখন ইহরামের কাপড় পরবেন, কখন নিয়ত করবেন — জেনে নিন।

প্রকাশিত ৩ অক্টোবর ২০২৬
মদিনার কাছে জুলহুলাইফার মিকাত মসজিদের চত্বরে ইহরাম পরা হাজিরা

উমরাহর জন্য মক্কায় যাওয়া প্রত্যেক হাজিকে 'মিকাত' নামের একটি সীমানা পার হওয়ার আগেই ইহরাম বাঁধতে হয়। স্থলপথে মিকাত হলো মসজিদসহ একটি জায়গা, যেখানে হাজিরা থামেন, গোসল করেন, কাপড় বদলান। আকাশপথে কোনো বিরতি নেই: বিমান সীমানাটা পার হয়ে চলে যায়। বাংলাদেশের হাজিদের জন্য এটিই সফরের প্রথম আমল, আর তা সম্পন্ন হয় বিমানের আসনে বসে। কীভাবে প্রস্তুত থাকবেন, এই লেখায় তা-ই বলা হয়েছে। এখানে প্রচলিত নিয়মের কথা বলা হয়েছে; মাসআলার জন্য নিজের আলেমের পরামর্শ নিন।

মিকাত কী

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন দিক থেকে আসা মানুষের জন্য মক্কার চারপাশে কয়েকটি জায়গাকে মিকাত নির্ধারণ করেছেন: মদিনার কাছে জুলহুলাইফা, রাবিগের কাছে জুহফা, তায়েফের দিকে কারনুল মানাযিল, দক্ষিণে ইয়ালামলাম আর উত্তর-পূর্বে যাতু ইরক। উমরাহ বা হজের নিয়তে যিনি যাবেন, এগুলো পার হওয়ার আগেই তাঁকে ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে। বিমান মিকাতের বরাবর এলে সেটিকেই মিকাত পার হওয়া ধরা হয়।

ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে জেদ্দার ফ্লাইটে

জেদ্দা মিকাতের সীমানার ভেতরে, তাই নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশ থেকে আসা ফ্লাইট পূর্ব দিক থেকে ঢোকে আর নামার মোটামুটি ২০ মিনিট আগে সীমানা পার হয় — যাতু ইরক ও কারনুল মানাযিল মিকাতের বরাবর। আপনার বিমানবন্দরের জন্য আনুমানিক জায়গাটা দেখাবে আমাদের মিকাত ফাইন্ডার।

বাস্তবে হাজিরা যা করেন:

  • বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে বা বিমানবন্দরে: গোসল করে ইহরামের কাপড় পরে নিন। পুরুষেরা পরেন দুটি সাদা, সেলাইহীন কাপড়; নারীরা তাঁদের সাধারণ শালীন পোশাকই পরেন। বিমানের টয়লেটে কাপড় বদলানো কঠিন, তাই বেশির ভাগ মানুষ ওঠার আগেই বদলে নেন।
  • বিমানে: কাপড় পরলেই ইহরাম হয় না। ইহরাম শুরু হয় নিয়তের মাধ্যমে।
  • ক্রু মিকাতের ঘোষণা দিলে: উমরাহর নিয়ত করুন আর তালবিয়া পড়া শুরু করুন। জেদ্দাগামী এয়ারলাইনগুলো সাধারণত আগে একবার আর মিকাতে পৌঁছে আরেকবার ঘোষণা দেয়।
  • সময় নিয়ে সংশয় থাকলে: একটু আগেই নিয়ত করে ফেলুন। মিকাতের আগে ইহরাম বাঁধা শুদ্ধ; ইহরাম ছাড়া মিকাত পার হওয়া শুদ্ধ নয়।

প্রথম গন্তব্য মদিনা হলে

বাংলাদেশের অনেক প্যাকেজে প্রথমে মদিনায় যাওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে ফ্লাইটে ইহরাম বাঁধবেন না, কারণ আপনি তখন মদিনায় যাচ্ছেন, মক্কায় নয়। ইহরাম বাঁধবেন কয়েক দিন পর জুলহুলাইফায় — যাকে আবইয়ার আলীও বলে — মদিনা থেকে বেরোনোর পথের বড় মসজিদটিতে। কোচ আর প্রাইভেট কার সেখানে থামে; হারামাইন ট্রেনে গেলে স্টেশনে যাওয়ার আগে মিকাতে যান।

ইহরাম অবস্থায় যা মানতে হয়

নিয়ত করার পর থেকে উমরাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু কাজ নিষিদ্ধ। যেমন: সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা, আর পুরুষদের জন্য সেলাই করা পোশাক পরা ও মাথা ঢাকা। নারীরা নেকাব ও হাতমোজা পরেন না। দাম্পত্য সম্পর্ক নিষিদ্ধ। নরম ভাষায় কথা বলুন; ঝগড়া-বিবাদ ইহরামের আদর্শের পরিপন্থী। সুগন্ধিহীন ছোট একটি সাবান, টাকা রাখার বেল্ট আর বাড়তি একটি ইহরামের কাপড় সঙ্গে রাখলে কাজে লাগে।

ইহরাম ছাড়া মিকাত পার হয়ে গেলে

এমন হয়: কেউ ঘুমিয়ে পড়েন, কেউ ঘোষণা শুনতে পান না। প্রচলিত মাসআলা হলো, হাজি কোনো মিকাতে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বাঁধবেন, আর তা সম্ভব না হলে মক্কায় দম (কোরবানি) দেবেন। নামার সঙ্গে সঙ্গে দলনেতাকে জানান, আর করণীয় জেনে নিন দলের আলেমের কাছে।

এর পরের আমলগুলো — তাওয়াফ, সাঈ আর চুল কাটা — সম্পর্কে পড়ুন প্রথমবার উমরাহ লেখায়। আমাদের উমরাহ প্যাকেজে একজন গাইড মিকাতের আগে দলকে মনে করিয়ে দেন।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশের হাজিদের মিকাত কোথায়?

জেদ্দার ফ্লাইটে মিকাত হলো মক্কার পূর্ব দিকের সীমানা — যাতু ইরক ও কারনুল মানাযিলের বরাবর — যা বিমান নামার প্রায় ২০ মিনিট আগে পার হয়। যাঁরা প্রথমে মদিনায় যান, তাঁরা পরে মক্কায় যাওয়ার সময় জুলহুলাইফা থেকে ইহরাম বাঁধেন।

জেদ্দা বিমানবন্দরে নেমে কি ইহরাম বাঁধা যায়?

না। জেদ্দা মিকাতের ভেতরে, তাই উমরাহর নিয়তে আসা হাজিকে বিমান সীমানা পার হওয়ার আগেই ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে।

ঢাকা থেকেই কি ইহরামের কাপড় পরে যাব?

বেশির ভাগ হাজি বাড়িতে বা যাত্রার বিমানবন্দরেই ইহরামের কাপড় পরে নেন, আর নিয়ত করেন পরে — বিমানে মিকাতের ঘোষণা হলে। কানেক্টিং ফ্লাইট থাকলে ট্রানজিট বিমানবন্দরেও কাপড় বদলে নিতে পারেন।

আরও গল্প

সব গল্প →