darbiya
darbiya

মদিনা · ইতিহাস ও স্থাপত্য

যুগে যুগে মসজিদে নববী

৬২২ খ্রিস্টাব্দের প্রায় ১,০৫০ বর্গমিটারের কাঁচা ইটের আঙিনা থেকে মদিনার নবীজির ﷺ মসজিদ কীভাবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হলো — যুগ ধরে ধরে, একই মাপে আঁকা নকশা, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র আর নিখুঁত মডেল বানানোর নির্দেশনাসহ।

প্রতিটি যুগের নকশা, একই মাপে

একটি যুগ বেছে নিন। আগের সীমানাগুলো নবীজির ﷺ কক্ষ ঘিরে ড্যাশ রেখার বৃত্তের মতো থেকে যায়, তাই প্রতিটি সম্প্রসারণ কতদূর গেছে দেখা যায়।

আজকের মসজিদে নববী — বর্তমান (২০২৬)উকিবলা200 m
ছাদওয়ালা নামাজঘরখোলা আঙিনানবীজির ﷺ কক্ষকক্ষের ওপরের গম্বুজমিম্বরমিনারসরানো গম্বুজচত্বরঅস্থায়ী বা পরিকল্পিতআগের সীমানা
বর্তমান (২০২৬)
আজকের মসজিদে নববী
ভবনের আয়তন
৯৮,৫০০ m²
মিনার
১০
বৃদ্ধি
ভবনের আয়তন অপরিবর্তিত
গম্বুজ
সবুজ গম্বুজ, উসমানীয় গম্বুজ ও ২৭টি সরানো গম্বুজ
এই যুগ সম্পর্কে পড়ুন

এক নজরে সংখ্যা

সময়কী ঘটেছিলআয়তন (বর্গমিটার)মিনার
৬২২ খ্রি. · ১ হিজরিপ্রথম মসজিদ১,০৫০০
৬২৯ খ্রি. · ৭ হিজরিনবীজির ﷺ নিজের সম্প্রসারণ২,৪৭৫০
৬৩৮ খ্রি. · ১৭ হিজরিউমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) সম্প্রসারণ৩,৫৭৫০
৬৪৯–৬৫০ খ্রি. · ২৯–৩০ হিজরিউসমান ইবনে আফফান (রা.): প্রথম পাথরের মসজিদ৪,০৭১০
৭০৭–৭১০ খ্রি. · ৮৮–৯১ হিজরিউমাইয়া পুনর্নির্মাণ: প্রথম মিনার৬,৪৪০৪
৭৭৮–৭৮১ খ্রি. · ১৬১–১৬৫ হিজরিআব্বাসীয় আমলে উত্তরে সম্প্রসারণ৮,৮৯০৩–৪
১২৫৬–১৩০৭ খ্রি. · ৬৫৪–৭০৬ হিজরিঅগ্নিকাণ্ড, মামলুক সংস্কার ও প্রথম গম্বুজ৮,৮৯০৩–৪
১৪৭৬–১৪৮৩ খ্রি. · ৮৮১–৮৮৮ হিজরিকায়েতবায়: পাথরের গম্বুজ ও বজ্রপাতের আগুনের পর পুনর্নির্মাণ৯,০১০৫
১৫১৭–১৮৩৭ খ্রি.প্রাথমিক উসমানীয় যুগ ও সবুজ গম্বুজ৯,০১০৫
১৮৪৯–১৮৬১ খ্রি. · ১২৬৫–১২৭৭ হিজরিপ্রথম আবদুল মজিদ: আজও টিকে থাকা উসমানীয় মসজিদ১০,৩০৩৫
১৮৮০–১৯২৫ খ্রি.প্রথম আলোকচিত্র, রেলপথ ও বিদ্যুতের আলো১০,৩০৩৫
১৯৫১–১৯৫৫ খ্রি. · ১৩৭০–১৩৭৫ হিজরিপ্রথম সৌদি সম্প্রসারণ১৬,৩২৭৪
১৯৭৩–১৯৮৩ খ্রি. · ১৩৯৩–১৪০৩ হিজরিছায়াঘেরা নামাজের চত্বর১৬,৩২৭৪
১৯৮৪–১৯৯৪ খ্রি. · ১৪০৫–১৪১৪ হিজরিবাদশাহ ফাহদের সম্প্রসারণ৯৮,৫০০১০
২০০৫–২০১৫ খ্রি.চত্বরজুড়ে বিশাল ছাতা৯৮,৫০০১০
বর্তমান (২০২৬)আজকের মসজিদে নববী৯৮,৫০০১০

শুধু ভবনের আয়তন (সরকারি হিসাব; চত্বর ও ছাদ বাদে)। কিছু সূত্রে ৬৪৯ ও ৭০৭ সালের আয়তন আরও বেশি দেওয়া আছে।

যুগ ধরে ধরে

  1. ১৬টি যুগের ১ নম্বর · ৬২২ খ্রি. · ১ হিজরি

    প্রথম মসজিদ

    নির্মাতা: নবী মুহাম্মদ ﷺ ও সাহাবিরা নিজ হাতে নির্মাণ করেন

    নকশা, ৬২২ খ্রি. · ১ হিজরিউকিবলা10 m
    নকশা, ৬২২ খ্রি. · ১ হিজরি
    প্রথম মসজিদের নকশা (১ হিজরি / ৬২২ খ্রি.) — আধুনিক পুনর্গঠন।
    প্রথম মসজিদের নকশা (১ হিজরি / ৬২২ খ্রি.) — আধুনিক পুনর্গঠন। চিত্র: SPQR10 · CC0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    রোদে শুকানো কাঁচা ইটের দেয়ালঘেরা একটি আঙিনা, প্রায় ৩৫ × ৩০ মিটার — জমিটি দুই এতিম ভাই সাহল ও সুহাইলের কাছ থেকে কেনা। খেজুরগাছের কাণ্ডের খুঁটির সারির ওপর খেজুরপাতা ও মাটির ছাদ (প্রায় ৩.৬ মিটার উঁচু) আঙিনার একাংশে ছায়া দিত; বাকিটা খোলা আকাশের নিচে। তিনটি দরজা ছিল, আর নবী-পরিবারের কক্ষগুলো পূর্ব দেয়াল ঘেঁষে মসজিদের দিকে খোলা ছিল।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    হিজরতের পর প্রায় সাত মাসে নির্মিত। ২ হিজরিতে (৬২৪ খ্রি.) কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে মক্কার দিকে ফিরলে নামাজের দিক উত্তর দেয়াল থেকে দক্ষিণ দেয়ালে সরে যায়, আর উত্তরের পুরোনো ছাউনি হয়ে ওঠে সুফফা — গৃহহীন সাহাবিদের আশ্রয়।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    শুরুর অবস্থা: মিনার নেই, গম্বুজ নেই, মিহরাবের খাঁজও নেই। নবীজি ﷺ প্রথমে একটি খেজুর কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন; পরে তিন ধাপের কাঠের মিম্বর তৈরি হয়।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    আয়তন প্রায় উত্তর–দক্ষিণে ৩৫ মিটার × পূর্ব–পশ্চিমে ৩০ মিটার। পাথরের ভিতের ওপর কাঁচা ইটের দেয়াল, প্রায় ৩.৬ মিটার উঁচু; সমতল খেজুরপাতা-মাটির ছাদের নিচে খেজুর কাণ্ডের খুঁটির সারি; মাটি ও নুড়ির আঙিনা; তিন দরজা; পূর্ব দেয়ালের বাইরে কাঁচা ইট ও খেজুরপাতার পর্দায় তৈরি পরিবারের কক্ষ। রং: কাঁচা মাটি, শুকনো খেজুরপাতা, বালু।
    ১,০৫০ m²ভবনের আয়তন০মিনারনেইগম্বুজ
  2. ১৬টি যুগের ২ নম্বর · ৬২৯ খ্রি. · ৭ হিজরি

    নবীজির ﷺ নিজের সম্প্রসারণ

    নির্মাতা: নবী মুহাম্মদ ﷺ

    নকশা, ৬২৯ খ্রি. · ৭ হিজরিউকিবলা20 m
    নকশা, ৬২৯ খ্রি. · ৭ হিজরি

    এই যুগের নিজস্ব কোনো উন্মুক্ত-লাইসেন্সের ছবি নেই; ছবিগুলোতে একই জায়গা পরের সময়ের।

    ২০২২ সালের রওজা, সাদা-সোনালি স্তম্ভের মাঝে নবীজির ﷺ মিহরাব। আজকের মসজিদের এই অংশটি নবীজির ﷺ নিজের তৈরি ও সম্প্রসারিত মসজিদের সীমানার ভেতরে।
    ২০২২ সালের রওজা, সাদা-সোনালি স্তম্ভের মাঝে নবীজির ﷺ মিহরাব। আজকের মসজিদের এই অংশটি নবীজির ﷺ নিজের তৈরি ও সম্প্রসারিত মসজিদের সীমানার ভেতরে। ছবি: Unknown author · CC BY-SA 4.0 · Wikimedia Commons
    রওজা ও কক্ষের নকশা (আরবি লেবেল): সবুজ রঙে রওজার সীমানা ও নামযুক্ত স্তম্ভ — আয়েশা (রা.), তওবা ইত্যাদি — বাঁয়ে মিম্বর, নিচে নবীজির ﷺ মিহরাব, ডানে কবর ঘিরে থাকা দেয়াল আর ওপরে ফাতিমার (রা.) ঘর।
    রওজা ও কক্ষের নকশা (আরবি লেবেল): সবুজ রঙে রওজার সীমানা ও নামযুক্ত স্তম্ভ — আয়েশা (রা.), তওবা ইত্যাদি — বাঁয়ে মিম্বর, নিচে নবীজির ﷺ মিহরাব, ডানে কবর ঘিরে থাকা দেয়াল আর ওপরে ফাতিমার (রা.) ঘর। চিত্র: Bilal al-Duwaik · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    একই উপকরণ ও নকশা, এখন প্রায় ৫০ × ৫০ মিটার (১০০ × ১০০ হাত)। কিবলা দেয়াল বরাবর আরও খেজুর-খুঁটির সারি যোগ হয়ে ছাদওয়ালা নামাজের অংশ গভীর হয়।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    খায়বারের যুদ্ধের পর মুসল্লি বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিম ও উত্তরে জমি যোগ করা হয় — বর্ণনা আছে, একটি অংশের দাম দেন উসমান ইবনে আফফান (রা.)। আবু বকরের (রা.) সময়ে মসজিদ অপরিবর্তিত থাকে।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    আগের চেয়ে প্রায় ২.৪ গুণ বড়, কিবলার দিকের ছাদওয়ালা অংশ আরও গভীর — উপকরণ তখনও কাঁচা ইট, খেজুর কাণ্ড ও পাতা।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    প্রায় ৫০ × ৫০ মিটারের বর্গ: প্রথম মডেলকে পশ্চিম ও উত্তরে বাড়ান, দক্ষিণ-পূর্ব কোণ (পরিবারের কক্ষ ও আয়েশার (রা.) কক্ষ) আগের জায়গায় রাখুন। কিবলার ছাদের নিচে খেজুর কাণ্ডের তিন সারি খুঁটি।
    ২,৪৭৫ m²ভবনের আয়তন০মিনারনেইগম্বুজ
  3. ১৬টি যুগের ৩ নম্বর · ৬৩৮ খ্রি. · ১৭ হিজরি

    উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) সম্প্রসারণ

    নির্মাতা: খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

    নকশা, ৬৩৮ খ্রি. · ১৭ হিজরিউকিবলা20 m
    নকশা, ৬৩৮ খ্রি. · ১৭ হিজরি

    এই যুগের নিজস্ব কোনো উন্মুক্ত-লাইসেন্সের ছবি নেই; ছবিগুলোতে একই জায়গা পরের সময়ের।

    প্রতিটি সম্প্রসারণ, প্রতিটি যুগ আলাদা রঙে, উত্তর ওপরে (আরবি নির্দেশিকা)। ৬৩৮ সালের (১৭ হিজরি) উমরের (রা.) মসজিদ হলো নবীজির ﷺ নিজের মসজিদ (দুই সবুজ রং) ঘিরে সরষে-রঙা অংশ; দাগকাটা অংশটি কক্ষ।
    প্রতিটি সম্প্রসারণ, প্রতিটি যুগ আলাদা রঙে, উত্তর ওপরে (আরবি নির্দেশিকা)। ৬৩৮ সালের (১৭ হিজরি) উমরের (রা.) মসজিদ হলো নবীজির ﷺ নিজের মসজিদ (দুই সবুজ রং) ঘিরে সরষে-রঙা অংশ; দাগকাটা অংশটি কক্ষ। চিত্র: Bilal al-Duwaik · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    তখনও কাঁচা ইট ও খেজুর কাঠ, তবে আয়তন প্রায় ৫৭ × ৬৬ মিটার; ছাদ উঁচু করে প্রায় ৫.৬ মিটার, মেঝেতে নুড়ি বিছানো, দরজা ছয়টি।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    উমর (রা.) মসজিদের চারপাশের বাড়ি কিনে সরিয়ে দেন — নবীজির স্ত্রীদের ঘর ছাড়া — এবং দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরে মসজিদ বাড়ান। উত্তরের বাইরে তৈরি করেন ‘আল-বুতাইহা’, নুড়ি বিছানো এক চত্বর, যেখানে মানুষ মসজিদের ভেতরে আওয়াজ না তুলে কথা বা কবিতা আবৃত্তি করতে পারত।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    নবীজির ﷺ পরে প্রথম সম্প্রসারণ: ছাদ আরও উঁচু, তিনটি নতুন দরজা, আর কিবলা দেয়াল প্রায় ৫ মিটার দক্ষিণে সরানো।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    প্রায় ৫৭ × ৬৬ মিটার। পাথরের ভিতের ওপর কাঁচা ইটের দেয়াল; জীর্ণ খুঁটির জায়গায় নতুন খেজুর কাণ্ড; প্রায় ৫.৬ মিটার উঁচু সমতল ছাদ; ছয় দরজা; নুড়ির মেঝে। নবী-পরিবারের কক্ষগুলো তখনও পূর্ব দেয়ালের বাইরে।
    ৩,৫৭৫ m²ভবনের আয়তন০মিনারনেইগম্বুজ
  4. ১৬টি যুগের ৪ নম্বর · ৬৪৯–৬৫০ খ্রি. · ২৯–৩০ হিজরি

    উসমান ইবনে আফফান (রা.): প্রথম পাথরের মসজিদ

    নির্মাতা: খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.)

    নকশা, ৬৪৯–৬৫০ খ্রি. · ২৯–৩০ হিজরিউকিবলা20 m
    নকশা, ৬৪৯–৬৫০ খ্রি. · ২৯–৩০ হিজরি

    এই যুগের নিজস্ব কোনো উন্মুক্ত-লাইসেন্সের ছবি নেই; ছবিগুলোতে একই জায়গা পরের সময়ের।

    আজকের দক্ষিণ (কিবলা) দেয়াল। এর রেখা উসমানের (রা.) ৬৫০ সালের পুনর্নির্মাণ থেকে — পরের কোনো সম্প্রসারণ একে আর দক্ষিণে সরায়নি; টালি ও ক্যালিগ্রাফিসহ দেয়ালটি ১৮৪৯–৬১ সালের উসমানীয় পুনর্নির্মাণ ও পরের সংস্কারের।
    আজকের দক্ষিণ (কিবলা) দেয়াল। এর রেখা উসমানের (রা.) ৬৫০ সালের পুনর্নির্মাণ থেকে — পরের কোনো সম্প্রসারণ একে আর দক্ষিণে সরায়নি; টালি ও ক্যালিগ্রাফিসহ দেয়ালটি ১৮৪৯–৬১ সালের উসমানীয় পুনর্নির্মাণ ও পরের সংস্কারের। ছবি: Bilal al-Duwaik · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    দশ মাসে নতুন করে নির্মাণ: চুন-সুরকিতে গাঁথা খোদাই পাথরের দেয়াল, লোহা ও সীসায় জোড়া পাথরের স্তম্ভ, সেগুন কাঠের ছাদ। নকশা আয়তাকার, মুখ মক্কার দিকে।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    মূলত দক্ষিণে (কিবলার দিকে), পশ্চিমে ও উত্তরে সম্প্রসারণ। বাড়ানো কিবলা দেয়ালে নতুন মিহরাবের স্থান (পরে ‘উসমানি মিহরাব’ নামে পরিচিত) এবং ইমামের জন্য ঘেরা স্থান (মাকসুরা)।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    মাটি আর খেজুর কাঠের জায়গায় আসে পাথর ও সেগুন — মসজিদ হয় স্থায়ী পাকা ভবন।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    আমাদের নকশায় প্রায় ৫৯ × ৬৯ মিটার (সরকারি হিসাবে মোট ৪,০৭১ বর্গমিটার; কিছু সূত্রে ৮১ × ৬৩ মিটার)। হালকা রঙের খোদাই পাথরের দেয়ালে নকশাদার প্লাস্টার; লোহার আংটায় বাঁধা পাথরের স্তম্ভ; সমতল সেগুন কাঠের ছাদ; কিবলা দেয়াল প্রথম মসজিদের চেয়ে প্রায় ৯ মিটার দক্ষিণে।
    ৪,০৭১ m²ভবনের আয়তন০মিনারনেইগম্বুজ
  5. ১৬টি যুগের ৫ নম্বর · ৭০৭–৭১০ খ্রি. · ৮৮–৯১ হিজরি

    উমাইয়া পুনর্নির্মাণ: প্রথম মিনার

    নির্মাতা: খলিফা আল-ওয়ালিদ (প্রথম); নির্মাণ করেন তাঁর গভর্নর উমর ইবনে আবদুল আজিজ

    নকশা, ৭০৭–৭১০ খ্রি. · ৮৮–৯১ হিজরিউকিবলা25 m
    নকশা, ৭০৭–৭১০ খ্রি. · ৮৮–৯১ হিজরি
    তুলনার জন্য: দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের ‘বারাদা’ মোজাইক, একই খলিফার জন্য একই সময়ে তৈরি। ইবনে জুবাইর (১১৮৪) মদিনায়ও এমন গাছ-ভবনের মোজাইকের বর্ণনা দিয়েছেন।
    তুলনার জন্য: দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের ‘বারাদা’ মোজাইক, একই খলিফার জন্য একই সময়ে তৈরি। ইবনে জুবাইর (১১৮৪) মদিনায়ও এমন গাছ-ভবনের মোজাইকের বর্ণনা দিয়েছেন। ছবি: Dosseman · CC BY-SA 4.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    চারদিকে খিলানওয়ালা বারান্দাসহ বিশাল আঙিনা-মসজিদ; মার্বেলের প্যানেল, সোনালি জমিনে গাছ ও ভবনের মোজাইক, সোনালি কারুকাজের ছাদ। চার কোণে চারটি টাওয়ার — ইসলামি স্থাপত্যের প্রথম দিকের মিনার — আর প্রথম অবতল (খাঁজকাটা) মিহরাব।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    তিন বছরে, গ্রিক ও কপ্ট কারিগর এবং বাইজেন্টিয়াম থেকে আনা উপকরণে মসজিদ পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তরে বাড়ানো হয়। নবীজির স্ত্রীদের কক্ষগুলো ভেঙে ফেলা হয়, আর নবীজির ﷺ কক্ষ — যেখানে তাঁর, আবু বকর (রা.) ও উমরের (রা.) কবর — পাঁচকোনা দেয়ালের ভেতরে মসজিদের অংশ হয়ে যায়।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    সাদামাটা ঘেরা আঙিনা থেকে কারুকাজময় রাজকীয় ভবন: প্রথম মিনার, প্রথম মিহরাব-খাঁজ, কক্ষটি দেয়ালের ভেতরে, আর নকশা ট্রাপিজিয়াম আকৃতির।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    প্রায় ৮০ মিটার চওড়া ও ৮০ মিটার গভীর ট্রাপিজিয়াম (সরকারি হিসাবে ৬,৪৪০ বর্গমিটার; কিছু সূত্রে ৮,৬৭২ বর্গমিটার, লম্বা দিক ১০২ মিটার)। খোলা আঙিনা ঘিরে খিলান-বারান্দা; চার কোণে চারকোনা টাওয়ার; দেয়ালে সবুজ-সোনালি মোজাইক — সবচেয়ে কাছের টিকে থাকা নমুনা দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ, একই খলিফা ও একই কারিগর দলের কাজ; কক্ষ ঘিরে পাঁচকোনা দেয়াল।
    ৬,৪৪০ m²ভবনের আয়তন৪মিনারনেইগম্বুজ
  6. ১৬টি যুগের ৬ নম্বর · ৭৭৮–৭৮১ খ্রি. · ১৬১–১৬৫ হিজরি

    আব্বাসীয় আমলে উত্তরে সম্প্রসারণ

    নির্মাতা: খলিফা আল-মাহদি

    নকশা, ৭৭৮–৭৮১ খ্রি. · ১৬১–১৬৫ হিজরিউকিবলা50 m
    নকশা, ৭৭৮–৭৮১ খ্রি. · ১৬১–১৬৫ হিজরি
    ১২০৫ খ্রি. (৬০২ হিজরি) তারিখের হজ সনদে গম্বুজ তৈরির আগের মসজিদ: নবীজি ﷺ, আবু বকর (রা.) ও উমরের (রা.) কবরের ঘের, রওজা, মিম্বর ও ঝুলন্ত বাতি।
    ১২০৫ খ্রি. (৬০২ হিজরি) তারিখের হজ সনদে গম্বুজ তৈরির আগের মসজিদ: নবীজি ﷺ, আবু বকর (রা.) ও উমরের (রা.) কবরের ঘের, রওজা, মিম্বর ও ঝুলন্ত বাতি। ছবি: Francesco Bini · CC BY-SA 4.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    উমাইয়া মসজিদটিই উত্তরে প্রায় ২,৪৫০ বর্গমিটার লম্বা করা হয়; লম্বা আঙিনা ঘিরে খিলান-বারান্দা চলতে থাকে, নতুন উত্তর কোণে টাওয়ার।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    আল-মাহদি চার বছর ধরে মসজিদ উত্তরে বাড়ান, দেয়ালে তাঁর নাম খোদাই করা হয়। পরবর্তী আব্বাসীয় খলিফারা (আল-মুতাওয়াক্কিল) কক্ষের ঘের মার্বেলে মুড়ে দেন। মেরামতসহ এই মসজিদ প্রায় ৫০০ বছর টিকে ছিল।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    নকশা আরও লম্বা, আঙিনা বড়; উত্তরের টাওয়ার নতুন কোণে সরে যায়; কিবলার দিক অপরিবর্তিত।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    প্রায় ৮০ × ১১১ মিটার, ৭০৭ সালের মতোই আঙিনা ও খিলান-বারান্দা; কোণে তিন বা চারটি টাওয়ার; কক্ষের পাঁচকোনা ঘের, ওপরে কোনো গম্বুজ নেই — ঠিক যেমনটা ১২০৫ সালের হজ সনদে আঁকা।
    ৮,৮৯০ m²ভবনের আয়তন৩–৪মিনারনেইগম্বুজ
  7. ১৬টি যুগের ৭ নম্বর · ১২৫৬–১৩০৭ খ্রি. · ৬৫৪–৭০৬ হিজরি

    অগ্নিকাণ্ড, মামলুক সংস্কার ও প্রথম গম্বুজ

    নির্মাতা: শেষ আব্বাসীয় খলিফা, এরপর মামলুক সুলতান বাইবার্স ও কালাউন

    নকশা, ১২৫৬–১৩০৭ খ্রি. · ৬৫৪–৭০৬ হিজরিউকিবলা50 m
    নকশা, ১২৫৬–১৩০৭ খ্রি. · ৬৫৪–৭০৬ হিজরি

    এই যুগের নিজস্ব কোনো উন্মুক্ত-লাইসেন্সের ছবি নেই; ছবিগুলোতে একই জায়গা পরের সময়ের।

    ২০২৪ সালের সবুজ গম্বুজ — ১২৭৯ সালে সুলতান কালাউন যেখানে কক্ষের ওপর প্রথম গম্বুজ তুলেছিলেন; বর্তমান গম্বুজটি ১৮১৮ সালের, সবুজ রং করা হয় ১৮৩৭ সালে।
    ২০২৪ সালের সবুজ গম্বুজ — ১২৭৯ সালে সুলতান কালাউন যেখানে কক্ষের ওপর প্রথম গম্বুজ তুলেছিলেন; বর্তমান গম্বুজটি ১৮১৮ সালের, সবুজ রং করা হয় ১৮৩৭ সালে। ছবি: Bjelica · CC0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    আব্বাসীয় আমলের আয়তন, মেরামতসহ। ১২৭৯ সালে সুলতান কালাউন নবীজির ﷺ কক্ষের ওপর প্রথম গম্বুজ তৈরি করেন: চারকোনা ভিত্তির ওপর কাঠের গম্বুজ।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    ১২৫৬ সালে (৬৫৪ হিজরি) আগুনে ছাদ ও ভেতরের বড় অংশ পুড়ে যায়। শেষ আব্বাসীয় খলিফার আমলে পুনর্নির্মাণ শুরু হয়, পরে মিসরের মামলুক সুলতানরা তা চালিয়ে যান: ১২৬৯ সালে বাইবার্স কারিগর পাঠিয়ে কবরের চারপাশের জালি নতুন করে বানান, ১২৭৯ সালে কালাউন গম্বুজ যোগ করেন, আর ১৩০৭ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমের (বাবুস সালাম) মিনার পুনর্নির্মিত হয়।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    এই প্রথম বাইরে থেকে একটি গম্বুজ নবীজির ﷺ কক্ষের অবস্থান চিনিয়ে দেয়।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    আয়তন ৭৭৮ সালের মতো। কক্ষের ওপর চারকোনা ভিত্তিতে কাঠের গম্বুজ যোগ করুন (প্রাকৃতিক কাঠ বা রং করা — তখনও সবুজ নয়); খিলান-বারান্দা ও আঙিনা অপরিবর্তিত; দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বাবুস সালাম মিনার।
    ৮,৮৯০ m²ভবনের আয়তন৩–৪মিনার১টি — কক্ষের ওপর কাঠের গম্বুজ (১২৭৯)গম্বুজ
  8. ১৬টি যুগের ৮ নম্বর · ১৪৭৬–১৪৮৩ খ্রি. · ৮৮১–৮৮৮ হিজরি

    কায়েতবায়: পাথরের গম্বুজ ও বজ্রপাতের আগুনের পর পুনর্নির্মাণ

    নির্মাতা: মামলুক সুলতান আল-আশরাফ কায়েতবায়

    নকশা, ১৪৭৬–১৪৮৩ খ্রি. · ৮৮১–৮৮৮ হিজরিউকিবলা50 m
    নকশা, ১৪৭৬–১৪৮৩ খ্রি. · ৮৮১–৮৮৮ হিজরি
    কায়েতবায়ের মার্বেলের মিম্বর (১৫শ শতক), ১৫৯০ সালের উসমানীয় মিম্বর আসা পর্যন্ত ব্যবহৃত।
    কায়েতবায়ের মার্বেলের মিম্বর (১৫শ শতক), ১৫৯০ সালের উসমানীয় মিম্বর আসা পর্যন্ত ব্যবহৃত। ছবি: Saudi Press Agency (SPA) · CC BY-SA 4.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    কক্ষের ওপর পাথরের গম্বুজ, নতুন মিহরাব ও মার্বেলের মিম্বর; দক্ষিণ-পূর্ব কোণের প্রধান (রইসিয়া) মিনার পুনর্নির্মিত, আর পূর্ব দেয়াল সামান্য বাইরে সরানো (প্রায় ১২০ বর্গমিটার যোগ)।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    ১৪৭৬ সালে কায়েতবায় কাঠের গম্বুজের জায়গায় পাকা গম্বুজ বানান। ১৪৮১ সালে বজ্রপাতে মসজিদে আবার আগুন লাগে; ১৪৮১–১৪৮৩ সালে তিনি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন — নববি মিহরাব, উসমানি মিহরাব ও তাহাজ্জুদ মিহরাব, রইসিয়া মিনার ও পশ্চিমের একটি মিনারসহ।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    কাঠের বদলে পাকা গম্বুজ; আয়তন প্রায় ৯,০১০ বর্গমিটার; মিনার পাঁচটি।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    প্রায় ৮১ × ১১১ মিটার। কক্ষের ওপর আটকোনা ভিত্তিতে পাকা গম্বুজ; দক্ষিণ-পূর্বে উঁচু মামলুক মিনার (রইসিয়া), অন্যগুলো কোণে ও পশ্চিম পাশে; চূড়াওয়ালা ছাউনিসহ মার্বেলের মিম্বর।
    ৯,০১০ m²ভবনের আয়তন৫মিনার১টি — কক্ষের ওপর পাকা গম্বুজগম্বুজ
  9. ১৬টি যুগের ৯ নম্বর · ১৫১৭–১৮৩৭ খ্রি.

    প্রাথমিক উসমানীয় যুগ ও সবুজ গম্বুজ

    নির্মাতা: উসমানীয় সুলতানরা — প্রথম সুলাইমান থেকে দ্বিতীয় মাহমুদ

    নকশা, ১৫১৭–১৮৩৭ খ্রি.উকিবলা50 m
    নকশা, ১৫১৭–১৮৩৭ খ্রি.
    ১৭শ শতকের ইজনিক টালিতে মদিনার মসজিদ: গম্বুজওয়ালা কক্ষ, মিম্বর, মিনার ও খেজুরগাছ।
    ১৭শ শতকের ইজনিক টালিতে মদিনার মসজিদ: গম্বুজওয়ালা কক্ষ, মিম্বর, মিনার ও খেজুরগাছ। ছবি: Anonymous (İznik) · Public domain · Wikimedia Commons
    ১৮৫৩ সালে রিচার্ড বার্টনের সফরের স্কেচ (প্রকাশ ১৮৫৫–৫৭)।
    ১৮৫৩ সালে রিচার্ড বার্টনের সফরের স্কেচ (প্রকাশ ১৮৫৫–৫৭)। চিত্র: Richard Francis Burton · Public domain · Wikimedia Commons
    বার্টনের আঁকা মসজিদের নকশা — মিনার, দরজা ও রওজা চিহ্নিত।
    বার্টনের আঁকা মসজিদের নকশা — মিনার, দরজা ও রওজা চিহ্নিত। চিত্র: Richard Francis Burton · Public domain · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    মামলুক মসজিদটিই রক্ষা ও সংস্কার করা হয়: সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের আমলে নতুন পূর্ব ও পশ্চিম দেয়াল এবং উত্তর-পূর্বের নতুন মিনার (সুলাইমানিয়া); ১৫৯০ সালে তৃতীয় মুরাদের দেওয়া মার্বেলের মিম্বর, যা আজও ব্যবহৃত হয়; আর ১৮১৭–১৮১৮ সালে কক্ষের ওপর নতুন গম্বুজ।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    সুলাইমান (শাসনকাল ১৫২০–১৫৬৬) দেয়াল ও একটি মিনার পুনর্নির্মাণ করেন এবং নববি মিহরাবের পাশে আরেকটি মিহরাব যোগ করেন। ১৫৯০ সালে তৃতীয় মুরাদ মিম্বর স্থাপন করেন। দ্বিতীয় মাহমুদ ইটের গম্বুজ বানিয়ে সীসায় মুড়ে দেন; ১৮৩৭ সালে তা সবুজ রং করা হয়, তখন থেকেই এর নাম সবুজ গম্বুজ।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    আয়তন প্রায় বাড়েনি — কিন্তু মসজিদ পায় তার সবচেয়ে পরিচিত চিহ্ন, সবুজ গম্বুজ, আর আজকের মিম্বর।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    আয়তন ১৪৮৩ সালের মতো। কক্ষের ওপর ভিত্তির ওপর সীসায় মোড়া সবুজ গম্বুজ; পুরোনো মামলুক মিনারের পাশে সরু পেনসিল-আকৃতির উসমানীয় মিনার; রঙিন ছাদওয়ালা খিলান-বারান্দা। বার্টনের ১৮৫৩ সালের নকশায় পরের পুনর্নির্মাণ শুরুর মুহূর্তের মসজিদটি ধরা আছে।
    ৯,০১০ m²ভবনের আয়তন৫মিনার১টি — কক্ষের ওপরের গম্বুজ, ১৮৩৭ সালে সবুজ রং করাগম্বুজ
  10. ১৬টি যুগের ১০ নম্বর · ১৮৪৯–১৮৬১ খ্রি. · ১২৬৫–১২৭৭ হিজরি

    প্রথম আবদুল মজিদ: আজও টিকে থাকা উসমানীয় মসজিদ

    নির্মাতা: উসমানীয় সুলতান প্রথম আবদুল মজিদ

    নকশা, ১৮৪৯–১৮৬১ খ্রি. · ১২৬৫–১২৭৭ হিজরিউকিবলা50 m
    নকশা, ১৮৪৯–১৮৬১ খ্রি. · ১২৬৫–১২৭৭ হিজরি
    ১৮৮০ সালের দিকের উসমানীয় আঙিনা, খিলানের পেছনে সবুজ গম্বুজ।
    ১৮৮০ সালের দিকের উসমানীয় আঙিনা, খিলানের পেছনে সবুজ গম্বুজ। ছবি: Unknown author · Public domain · Wikimedia Commons
    সারি সারি ছোট উসমানীয় গম্বুজ, সবুজ গম্বুজ ও মিনার — ১৯১৪ সালের আগে।
    সারি সারি ছোট উসমানীয় গম্বুজ, সবুজ গম্বুজ ও মিনার — ১৯১৪ সালের আগে। ছবি: J. H. Halladjian or a Muslim photographer (Imperial War Museums) · Public domain · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    প্রায় ১৩ বছর ধরে লাল পাথরে প্রায় পুরোটা নতুন করে নির্মাণ। দক্ষিণের নামাজঘর দ্বিগুণ গভীর করে ছোট ছোট গম্বুজের সারিতে ঢাকা হয়, গম্বুজের ভেতরে কুরআনের আয়াত ও কাসিদাতুল বুরদার পঙ্‌ক্তি। আঙিনা ঘিরে খিলান-বারান্দা; মেঝে মার্বেল ও লাল পাথরের; কিবলা দেয়ালে টালি ও ক্যালিগ্রাফি।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    আয়তন বেড়ে হয় প্রায় ১০,৩০৩ বর্গমিটার (+১,২৯৩)। উত্তর পাশে কুরআন শিক্ষার মাদরাসা ও অজুখানা যোগ হয়। ক্যালিগ্রাফির নকশা করেন উসমানীয় ক্যালিগ্রাফার আবদুল্লাহ জুহদি।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    লাল পাথরে নতুন করে গড়া, সমতল ছাদের বদলে গম্বুজের ছাদ। আজকের ভবনের সবচেয়ে পুরোনো অংশ এটিই — রওজার চারপাশের দক্ষিণের নামাজঘর।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    প্রায় ৮৬ × ১২০ মিটার। লালচে-বাদামি পাথর; নামাজঘর ও বারান্দাজুড়ে চারকোনা খোপের ওপর ছোট অর্ধগোলাকার গম্বুজ; গভীর দক্ষিণের নামাজঘর; সোনালি মাথাওয়ালা স্তম্ভ; কক্ষের ওপর সবুজ গম্বুজ; পাঁচটি মিনার — বাবুস সালাম, রইসিয়া, বাবুর রহমত, সুলাইমানিয়া ও মাজিদিয়া।
    ১০,৩০৩ m²ভবনের আয়তন৫মিনারসবুজ গম্বুজ ও প্রায় ১৭০টি ছোট গম্বুজগম্বুজ
  11. ১৬টি যুগের ১১ নম্বর · ১৮৮০–১৯২৫ খ্রি.

    প্রথম আলোকচিত্র, রেলপথ ও বিদ্যুতের আলো

    নির্মাতা: উসমানীয় রাষ্ট্র; হেজাজ রাজ্য (১৯১৬–১৯২৫)

    নকশা, ১৮৮০–১৯২৫ খ্রি.উকিবলা50 m
    নকশা, ১৮৮০–১৯২৫ খ্রি.
    ১৯০৮ সালে ছাদ থেকে মদিনা: পুরোনো শহরের ওপরে সবুজ গম্বুজ ও মিনার।
    ১৯০৮ সালে ছাদ থেকে মদিনা: পুরোনো শহরের ওপরে সবুজ গম্বুজ ও মিনার। ছবি: Ibrahim Rifat Pasha · Public domain · Wikimedia Commons
    ১৯১৪ সালের আগে নামাজঘরের ভেতর — ঝাড়বাতি ও কার্পেট।
    ১৯১৪ সালের আগে নামাজঘরের ভেতর — ঝাড়বাতি ও কার্পেট। ছবি: J. H. Halladjian (Imperial War Museums) · Public domain · Wikimedia Commons
    আঙিনার দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, ‘ফাতিমার বাগান’ নামে পরিচিত খেজুরবাগানসহ, ১৯১৬।
    আঙিনার দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, ‘ফাতিমার বাগান’ নামে পরিচিত খেজুরবাগানসহ, ১৯১৬। ছবি: Bernhard Moritz (Library of Congress) · Public domain · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    আবদুল মজিদের মসজিদ, নকশা অপরিবর্তিত — এই প্রথম ক্যামেরায় ধরা পড়ে: ১৮৮০ সালের দিকে মুহাম্মদ সাদিক বে এবং ১৯০৮ সালে ইবরাহিম রিফাত পাশার ছবিতে।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    ১৯০৮ সালে হেজাজ রেলপথ মদিনায় পৌঁছায়, প্রায় একই সময়ে মসজিদে বিদ্যুতের আলো আসে। মদিনা অবরোধের (১৯১৬–১৯১৯) সময় উসমানীয় বাহিনী ১৯১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শহর ধরে রাখে; এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০০ বছরের উসমানীয় শাসনের অবসান ঘটে।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    বড় কোনো নির্মাণকাজ নেই: আধুনিক সুবিধা আসে, আর আলোকচিত্রে প্রথমবার ভবনের নিখুঁত দলিল তৈরি হয়।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    আবদুল মজিদের মসজিদের নিখুঁত মডেলের জন্য এই ছবিগুলো দেখুন: গম্বুজে ঢাকা ছাদ, খিলানের অনুপাত, মিনারের গড়ন, ঝাড়বাতি আর কক্ষ ঘিরে পিতলের জালি।
    ১০,৩০৩ m²ভবনের আয়তন৫মিনারসবুজ গম্বুজ ও প্রায় ১৭০টি ছোট গম্বুজগম্বুজ
  12. ১৬টি যুগের ১২ নম্বর · ১৯৫১–১৯৫৫ খ্রি. · ১৩৭০–১৩৭৫ হিজরি

    প্রথম সৌদি সম্প্রসারণ

    নির্মাতা: বাদশাহ আবদুল আজিজের নির্দেশে; ১৯৫৫ সালে বাদশাহ সৌদ উদ্বোধন করেন

    নকশা, ১৯৫১–১৯৫৫ খ্রি. · ১৩৭০–১৩৭৫ হিজরিউকিবলা50 m
    নকশা, ১৯৫১–১৯৫৫ খ্রি. · ১৩৭০–১৩৭৫ হিজরি
    ১৯৩৮ সালে নবীজির ﷺ কক্ষের সামনের পিতলের জালি (হিলাল ম্যাগাজিন)। প্রথম সৌদি সম্প্রসারণ উত্তরে যোগ হলেও এর চারপাশের উসমানীয় নামাজঘর রেখে দেওয়া হয়।
    ১৯৩৮ সালে নবীজির ﷺ কক্ষের সামনের পিতলের জালি (হিলাল ম্যাগাজিন)। প্রথম সৌদি সম্প্রসারণ উত্তরে যোগ হলেও এর চারপাশের উসমানীয় নামাজঘর রেখে দেওয়া হয়। ছবি: Hilal magazine, 1938 · Public domain · Wikimedia Commons
    ১৯৫৫ সালের নামাজঘরের দুই আঙিনার একটি, এখন ভাঁজ-করা ছাতায় ছায়াঘেরা (২০১০)।
    ১৯৫৫ সালের নামাজঘরের দুই আঙিনার একটি, এখন ভাঁজ-করা ছাতায় ছায়াঘেরা (২০১০)। ছবি: Swerveut · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    উসমানীয় নামাজঘরের উত্তরে পাথরে মোড়া রিইনফোর্সড কংক্রিটের নামাজঘর — দুই রঙের পালাক্রমিক (আবলাক) চোখা খিলান ও দুটি খোলা আঙিনা। দক্ষিণের উসমানীয় নামাজঘর রেখে দিয়ে তার স্তম্ভগুলো মজবুত করা হয়।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    প্রায় ৬,০২৪ বর্গমিটার যোগ হয়ে মসজিদ দাঁড়ায় প্রায় ১৬,৩২৭ বর্গমিটারে। পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বের মিনারের জায়গায় নতুন উত্তর কোণে মামলুক ধাঁচে দুটি নতুন মিনার ওঠে। পশ্চিম পাশে একটি গ্রন্থাগার তৈরি হয়।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    প্রথমবার কংক্রিটের ব্যবহার; মসজিদ প্রায় ৬০% বড় হয়; উসমানীয় মসজিদের উত্তর অংশের জায়গায় দুই আঙিনাসহ নতুন নামাজঘর; মিনার চারটি।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    মোট প্রায় ৮৬ × ১৯০ মিটার: দক্ষিণে গম্বুজওয়ালা উসমানীয় নামাজঘর, তার উত্তরে দুটি খোলা আঙিনাসহ সমতল ছাদের নামাজঘর; ক্রিম ও লাল ডোরাকাটা খিলান; উত্তরের দুই কোণে দুটি উঁচু মিনার, দক্ষিণে বাবুস সালাম ও রইসিয়া মিনার।
    ১৬,৩২৭ m²ভবনের আয়তন৪মিনারসবুজ গম্বুজ ও দক্ষিণের নামাজঘরের উসমানীয় গম্বুজগম্বুজ
  13. ১৬টি যুগের ১৩ নম্বর · ১৯৭৩–১৯৮৩ খ্রি. · ১৩৯৩–১৪০৩ হিজরি

    ছায়াঘেরা নামাজের চত্বর

    নির্মাতা: বাদশাহ ফয়সাল ও বাদশাহ খালিদ

    নকশা, ১৯৭৩–১৯৮৩ খ্রি. · ১৩৯৩–১৪০৩ হিজরিউকিবলা100 m
    নকশা, ১৯৭৩–১৯৮৩ খ্রি. · ১৩৯৩–১৪০৩ হিজরি

    এই যুগের নিজস্ব কোনো উন্মুক্ত-লাইসেন্সের ছবি নেই; ছবিগুলোতে একই জায়গা পরের সময়ের।

    মসজিদের পশ্চিমের যে জায়গা ১৯৭০-৮০-এর দশকে অস্থায়ী ছাউনিতে ঢাকা ছিল, সেটি এখন পাকা চত্বর — এখানে ভাঁজ-খোলা ছাতাসহ (২০১১)।
    মসজিদের পশ্চিমের যে জায়গা ১৯৭০-৮০-এর দশকে অস্থায়ী ছাউনিতে ঢাকা ছিল, সেটি এখন পাকা চত্বর — এখানে ভাঁজ-খোলা ছাতাসহ (২০১১)। ছবি: Anaya Ki Family · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    ভবন অপরিবর্তিত; মসজিদের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে পাকা বড় নামাজের চত্বর, ওপরে ছাউনি।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    ১৯৭৩ সালে বাদশাহ ফয়সাল পশ্চিম পাশে প্রায় ৪০,৪৪০ বর্গমিটার ছায়াঘেরা নামাজের চত্বরের নির্দেশ দেন। ১৯৭৭ সালে মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে আগুন লাগার পর বাদশাহ খালিদ জায়গাটি খালি করে সেখানে আরও প্রায় ৪৩,০০০ বর্গমিটার যোগ করেন।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    দেয়ালের বাইরে ভবনের চেয়ে পাঁচ গুণের বেশি অস্থায়ী জায়গা — আজকের চত্বরের দিকে প্রথম পদক্ষেপ।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    ১৯৫৫ সালের ভবন রেখে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে হালকা ইস্পাতের ছাউনির নিচে খোলা সমতল চত্বর যোগ করুন (নকশায় ড্যাশ রেখায় দেখানো)।
    ১৬,৩২৭ m²ভবনের আয়তন৪মিনার১৯৫৫ সালের মতোগম্বুজ
  14. ১৬টি যুগের ১৪ নম্বর · ১৯৮৪–১৯৯৪ খ্রি. · ১৪০৫–১৪১৪ হিজরি

    বাদশাহ ফাহদের সম্প্রসারণ

    নির্মাতা: বাদশাহ ফাহদ বিন আবদুল আজিজ

    নকশা, ১৯৮৪–১৯৯৪ খ্রি. · ১৪০৫–১৪১৪ হিজরিউকিবলা200 m
    নকশা, ১৯৮৪–১৯৯৪ খ্রি. · ১৪০৫–১৪১৪ হিজরি
    সবুজ গম্বুজ, বাবুস সালাম মিনার ও ১৯৯০-এর দশকের উঁচু মিনার (২০০৮)।
    সবুজ গম্বুজ, বাবুস সালাম মিনার ও ১৯৯০-এর দশকের উঁচু মিনার (২০০৮)। ছবি: Mondephile · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    বাদশাহ ফাহদ নামাজঘরে একটি সরানো গম্বুজের ভেতরের দিক।
    বাদশাহ ফাহদ নামাজঘরে একটি সরানো গম্বুজের ভেতরের দিক। ছবি: Mondephile · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    বাদশাহ ফাহদ নামাজঘরের ভেতর: স্তম্ভ, আবলাক খিলান ও ঝাড়বাতি।
    বাদশাহ ফাহদ নামাজঘরের ভেতর: স্তম্ভ, আবলাক খিলান ও ঝাড়বাতি। ছবি: Swerveut · CC BY-SA 3.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    নতুন নামাজঘর পুরোনো মসজিদকে পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিক থেকে ঘিরে ধরে: প্রায় ৮২,০০০ বর্গমিটার যোগ হয়ে ভবন দাঁড়ায় প্রায় ৯৮,৫০০ বর্গমিটারে। এর ছাদ (৬৭,০০০ বর্গমিটার) দ্বিতীয় নামাজের তলা — সিঁড়ি ও চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠা যায়। নতুন অংশের ভেতরের ২৭টি আঙিনা ঢাকা থাকে ১৮ × ১৮ মিটারের সরানো যায় এমন গম্বুজে, যা বাতাস ও আলোর জন্য সরে খুলে যায়। সব সেবা-ব্যবস্থা বেসমেন্ট দিয়ে চলে।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    প্রায় ১০৪ মিটার উঁচু ছয়টি নতুন মিনার (মোট দশটি); ১৯৫৫ সালের আবলাক খিলানের নকশা সবখানে; ভবন ঘিরে প্রায় ২,৩৫,০০০ বর্গমিটার মার্বেলের চত্বর, ভূগর্ভস্থ পার্কিং ও অজু-শৌচাগারের সেবা ভবন।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    ভবন প্রায় ছয় গুণ বড় হয়। এই প্রথম মসজিদে ছাদের নামাজের তলা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, চলন্ত সিঁড়ি ও সরানো গম্বুজ — আর চত্বরগুলোও মসজিদের অংশ হয়ে যায়।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    ১৯৫৫ সালের ভবন ঘিরে প্রায় ২৯৫ × ৩৩৪ মিটারের আয়তক্ষেত্র (আনুমানিক নকশা)। খিলানবাহী স্তম্ভের চারকোনা খোপের গ্রিড; বাইরে খিলানওয়ালা জানালাসহ ক্রিম রঙের পাথর; ছাদে রেলের ওপর ২৭টি সরানো গম্বুজ; ১০৪ মিটারের ছয়টি মিনার — চার কোণে চারটি, উত্তরের (বাদশাহ ফাহদ) দরজার দুই পাশে দুটি; চারপাশে সাদা মার্বেলের চত্বর।
    ৯৮,৫০০ m²ভবনের আয়তন১০মিনারসবুজ গম্বুজ, উসমানীয় গম্বুজ ও ২৭টি সরানো যায় এমন গম্বুজগম্বুজ
  15. ১৬টি যুগের ১৫ নম্বর · ২০০৫–২০১৫ খ্রি.

    চত্বরজুড়ে বিশাল ছাতা

    নির্মাতা: বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ

    নকশা, ২০০৫–২০১৫ খ্রি.উকিবলা200 m
    নকশা, ২০০৫–২০১৫ খ্রি.
    খোলা ছাতার ফাঁক দিয়ে মিনার (২০১০)।
    খোলা ছাতার ফাঁক দিয়ে মিনার (২০১০)। ছবি: Kelantan Jottings · CC BY 2.0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    ১৯৯৪ সালের ভবন ও চত্বর, এখন ইস্পাতের স্তম্ভের ওপর ভাঁজ খুলে যাওয়া ২৫০টি বিশাল ছাতায় ছায়াঘেরা।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    পূর্ব দিকে প্রায় ৩০,৫০০ বর্গমিটারের চত্বর যোগ হয়। ২০১০ সালের দিকে বিদ্যুৎচালিত ভাঁজ-করা ২৫০টি ছাতা বসানো হয় (নকশা: এসএল রাশ ও বুরো হ্যাপোল্ড), যা প্রায় ১,৪৩,০০০ বর্গমিটারে ছায়া দেয়। ২০১২ সালে বাদশাহ তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন — লক্ষ্য ১৬ লাখের বেশি মুসল্লির জায়গা।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    গ্রীষ্মেও সারাদিন চত্বরে নামাজ পড়া সম্ভব হয়, আর মসজিদের সীমা পূর্বে এগিয়ে যায়।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    ছাতাগুলো যোগ করুন: চত্বরের ওপর একক স্তম্ভে প্রায় ২৫ মিটার চওড়া বর্গাকার সাদা ঝিল্লির ছাউনি; পূর্ব দিকে চত্বর বাড়ান।
    ৯৮,৫০০ m²ভবনের আয়তন১০মিনার১৯৯৪ সালের মতোগম্বুজ
  16. ১৬টি যুগের ১৬ নম্বর · বর্তমান (২০২৬)

    আজকের মসজিদে নববী

    নির্মাতা: দেখভাল করে দুই পবিত্র মসজিদ পরিচর্যা কর্তৃপক্ষ

    নকশা, বর্তমান (২০২৬)উকিবলা200 m
    নকশা, বর্তমান (২০২৬)
    ওপর থেকে মসজিদ (২০১৮): সবুজ গম্বুজ, উসমানীয় গম্বুজ, উঁচু মিনার ও ভাঁজ-করা ছাতা।
    ওপর থেকে মসজিদ (২০১৮): সবুজ গম্বুজ, উসমানীয় গম্বুজ, উঁচু মিনার ও ভাঁজ-করা ছাতা। ছবি: Konevi · CC0 · Wikimedia Commons
    চত্বর ও সম্মুখভাগ, ২০২৪।
    চত্বর ও সম্মুখভাগ, ২০২৪। ছবি: Bjelica · CC0 · Wikimedia Commons
    গঠন ও নকশা
    দক্ষিণ থেকে উত্তরে: রওজা ও সবুজ গম্বুজসহ উসমানীয় নামাজঘর; দুই আঙিনাসহ ১৯৫৫ সালের নামাজঘর; তারপর সরানো গম্বুজ, ছাদের নামাজের তলা ও দশ মিনারসহ বাদশাহ ফাহদের অংশ — আর চারপাশে ছাতাওয়ালা মার্বেলের চত্বর। ভবন প্রায় ৯৮,৫০০ বর্গমিটার, ছাদ ৬৭,০০০, চত্বর প্রায় ২,৩৫,০০০ — মোট প্রায় ৪,০০,৫০০ বর্গমিটার।
    সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
    তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণ ধাপে ধাপে চলছে। এর পূর্ব অংশ — প্রায় ১,০০,০০০ বর্গমিটার, স্থির ও সরানো কাচের গম্বুজসহ — প্রথম ধাপেই আরও প্রায় ৮ লাখ মুসল্লির জায়গা করার পরিকল্পনা। রওজা জিয়ারতের সময় বুক করতে হয় নুসুক অ্যাপে।
    আগের যুগ থেকে কী বদলাল
    কর্তৃপক্ষের হিসাবে আঙিনাসহ এখন প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির জায়গা — ৬২২ সালের প্রায় ১,০৫০ বর্গমিটারের কাঁচা ইটের আঙিনা থেকে প্রায় ৩৮০ গুণ বড় এক চত্বর।
    মডেল বানানোর নির্দেশনা
    আজকের মডেলের জন্য: ভবন দিয়ে শুরু করুন (আমাদের নকশায় ≈ ২৯৫ × ৩৩৪ মিটার), দক্ষিণের মাঝখানে উসমানীয় নামাজঘর রাখুন, তার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সবুজ গম্বুজ; দেখানো জায়গায় দশটি মিনার বসান, ২৭টি সরানো গম্বুজ আর চত্বরের ওপর ছাতার গ্রিড যোগ করুন। পূর্বের সম্প্রসারণ ড্যাশ রেখায় — সীমানা আনুমানিক।
    ৯৮,৫০০ m²ভবনের আয়তন১০মিনারসবুজ গম্বুজ, উসমানীয় গম্বুজ ও ২৭টি সরানো গম্বুজগম্বুজ

মাপমতো মডেল বানানো

এই পাতার সব নকশার একটি স্থির বিন্দু — সবুজ গম্বুজের নিচে নবীজির ﷺ কক্ষ — আর সব মিটারে, উত্তর ওপরে রেখে আঁকা; তাই যেকোনো মাপে ট্রেস বা প্রিন্ট করতে পারেন। সাধারণ মডেলের মাপ:

যুগ১:৫০০ মাপে১:১০০০ মাপে১:২০০০ মাপে
৬২২ খ্রি. · ১ হিজরি · প্রথম মসজিদ৬.০ সেমি × ৭.০ সেমি৩.০ সেমি × ৩.৫ সেমি১.৫ সেমি × ১.৮ সেমি
৬৩৮ খ্রি. · ১৭ হিজরি · উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) সম্প্রসারণ১১.০ সেমি × ১৩.০ সেমি৫.৫ সেমি × ৬.৫ সেমি২.৮ সেমি × ৩.৩ সেমি
৭০৭–৭১০ খ্রি. · ৮৮–৯১ হিজরি · উমাইয়া পুনর্নির্মাণ: প্রথম মিনার১৬.০ সেমি × ১৬.১ সেমি৮.০ সেমি × ৮.১ সেমি৪.০ সেমি × ৪.০ সেমি
১৮৪৯–১৮৬১ খ্রি. · ১২৬৫–১২৭৭ হিজরি · প্রথম আবদুল মজিদ: আজও টিকে থাকা উসমানীয় মসজিদ১৭.২ সেমি × ২৪.০ সেমি৮.৬ সেমি × ১২.০ সেমি৪.৩ সেমি × ৬.০ সেমি
১৯৫১–১৯৫৫ খ্রি. · ১৩৭০–১৩৭৫ হিজরি · প্রথম সৌদি সম্প্রসারণ১৭.২ সেমি × ৩৮.০ সেমি৮.৬ সেমি × ১৯.০ সেমি৪.৩ সেমি × ৯.৫ সেমি
১৯৮৪–১৯৯৪ খ্রি. · ১৪০৫–১৪১৪ হিজরি · বাদশাহ ফাহদের সম্প্রসারণ৫৯.০ সেমি × ৬৬.৮ সেমি২৯.৫ সেমি × ৩৩.৪ সেমি১৪.৮ সেমি × ১৬.৭ সেমি

ভেতর থেকে বাইরের দিকে কাজ করুন: আগে কক্ষ ও মিম্বর বসান, তারপর কিবলা (দক্ষিণ) দেয়াল, তারপর প্রতিটি যুগের বাইরের দেয়াল। উচ্চতা মনে রাখুন: খেজুরপাতা-মাটির ছাদ প্রায় ৩.৬ মিটার (৬২২), প্রায় ৫.৬ মিটার (৬৩৮); ১৯৫৫ সালের মিনার প্রায় ৭০ মিটার, ১৯৯৪ সালের প্রায় ১০৪ মিটার।

মানুষ যা জানতে চান

মসজিদে নববী কতবার সম্প্রসারিত হয়েছে?

বড় নির্মাণকাজগুলো গুনলে: নবীজি ﷺ নিজে (৭ হিজরি), উমর (রা.), উসমান (রা.), আল-ওয়ালিদ, আল-মাহদি, কায়েতবায়, প্রথম আবদুল মজিদ, এবং ১৯৫৫ ও ১৯৯৪ সালে শেষ হওয়া সৌদি সম্প্রসারণ — আর এখন চলছে তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণ। সূত্রভেদে গণনা একটু আলাদা, কারণ কেউ কেউ ১২৫৬ ও ১৪৮১ সালের অগ্নিকাণ্ডের পরের পুনর্নির্মাণও ধরেন।

সবুজ গম্বুজ কবে তৈরি হয়?

নবীজির ﷺ কক্ষের ওপর প্রথম গম্বুজটি ছিল কাঠের, ১২৭৯ সালে মামলুক সুলতান কালাউনের তৈরি। ১৪৭৬ সালে সুলতান কায়েতবায় এর জায়গায় পাকা গম্বুজ বানান। বর্তমান গম্বুজটি ১৮১৭–১৮১৮ সালে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের তৈরি, ১৮৩৭ সালে সবুজ রং করা হয়।

আজকের মসজিদের সবচেয়ে পুরোনো অংশ কোনটি?

দক্ষিণের উসমানীয় নামাজঘর, ১৮৪৯–১৮৬১ সালে সুলতান প্রথম আবদুল মজিদের পুনর্নির্মিত — রওজা ও নবীজির ﷺ কক্ষের চারপাশে। কিছু অংশ আরও পুরোনো: মিম্বরটি ১৫৯০ সালের (সুলতান তৃতীয় মুরাদ), আর বাবুস সালাম মিনারের নিচের অংশ ১৩০৭ সালের মামলুক পুনর্নির্মাণের।

৬২২ সালের মূল মসজিদ কোথায় ছিল?

আজকের উসমানীয় নামাজঘরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে। মিম্বর ও নবীজির ﷺ কক্ষের মাঝের রওজা প্রথম মসজিদের সীমানার ভেতরেই।

আজ মসজিদটি কত বড়?

ভবন প্রায় ৯৮,৫০০ বর্গমিটার, ছাদের নামাজের তলা ৬৭,০০০ বর্গমিটার আর চত্বর প্রায় ২,৩৫,০০০ বর্গমিটার — মোট প্রায় ৪,০০,৫০০ বর্গমিটার। দুই পবিত্র মসজিদ পরিচর্যা কর্তৃপক্ষের হিসাবে আঙিনাসহ প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির জায়গা আছে, আর তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণে আরও বাড়বে।

এই পাতার নকশাগুলো কি হুবহু নিখুঁত?

না। এগুলো প্রকাশিত মাপ ও সরকারি আয়তনের হিসাব থেকে মাপমতো আঁকা আনুমানিক পুনর্গঠন, নবীজির ﷺ কক্ষকে স্থির বিন্দু ধরে। প্রথম দিকের মসজিদের দেয়ালের সঠিক রেখা অনিশ্চিত, সূত্রেও মতভেদ আছে — তাই নকশাগুলো বোঝা ও মডেল বানানোর জন্য, জরিপ হিসেবে নয়।

সূত্র

ছবি ও চিত্র উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে (পাবলিক ডোমেইন, CC0, CC BY বা CC BY-SA); প্রতিটির নিচে কৃতিত্ব দেওয়া আছে। এই পাতার নকশা © darbiya, কৃতিত্ব দিয়ে বিনা মূল্যে ব্যবহারযোগ্য।

মদিনা সফরের পরিকল্পনা করুন

মসজিদে নববীর কাছে হোটেল, যাতায়াত আর এর ইতিহাস জানা গাইডসহ উমরাহ প্যাকেজ।