সৌদি আরবে কী পরবেন, আর যে আদবকায়দা জানা জরুরি
পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের পোশাকবিধি অনেকের ধারণার চেয়ে সহজ। নারী ও পুরুষ কী পরবেন, আর কোন আদবকায়দা জানা দরকার।
প্রথমবার যাঁরা সৌদি আরবে যান, তাঁরা প্রায়ই ভুল করে ফেলার ভয়ে থাকেন। বাস্তবে নিয়ম অল্প, আর আতিথেয়তা উদার। শালীন পোশাক পরুন, ভদ্র থাকুন — যেখানেই যান, অতিথির মর্যাদা পাবেন। এর মানে কী, বিস্তারিত দেখে নিন।
নারীরা কী পরবেন
বিদেশি নারীদের আবায়া পরা বা চুল ঢাকা বাধ্যতামূলক নয়। নিয়ম হলো জনসমক্ষে শালীন পোশাক: কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা ঢিলেঢালা কাপড়, আঁটসাঁট বা স্বচ্ছ কিছু নয়। লম্বা স্কার্ট বা ঢিলা প্যান্টের সঙ্গে ফুলহাতা জামা সবখানেই চলে। অনেকেই সঙ্গে একটি হালকা ওড়না রাখেন: মসজিদে ঢুকতে এটি লাগে, রোদ আর ধুলো থেকেও বাঁচায়।
পুরুষেরা কী পরবেন
ফুলপ্যান্ট আর হাতাওয়ালা শার্ট। হাঁটুর ওপরের শর্টস আর হাতাকাটা জামা সৈকত বা জিমের জন্য — রাস্তা, শপিং মল বা রেস্তোরাঁর জন্য নয়। আপত্তিকর লেখা বা ছবিওয়ালা পোশাক জনসমক্ষে নিষিদ্ধ।
মসজিদে ও পবিত্র দুই শহরে
মক্কা, আর মদিনায় মসজিদে নববীর আশপাশের এলাকা শুধু মুসলিমদের জন্য। দুই পবিত্র মসজিদে নারীরা আবায়া বা ঢিলেঢালা পূর্ণদৈর্ঘ্যের পোশাক পরেন ও চুল ঢাকেন; পুরুষেরা লম্বা, ঢিলা পোশাক পরেন, আর উমরাহর সময় ইহরাম। অন্যরা যেখানে জুতা খোলেন সেখানে জুতা খুলুন, ফোন নীরব রাখুন, আর নামাজরত মানুষের সামনে দিয়ে হাঁটবেন না। অন্য শহরের কিছু মসজিদ নামাজের সময়ের বাইরে ভিন্ন ধর্মের দর্শনার্থীদেরও স্বাগত জানায়; সেখানেও পবিত্র শহরের মতোই পোশাক পরুন।
সালাম ও আতিথেয়তা
- বলুন 'আসসালামু আলাইকুম'; জবাব হলো 'ওয়া আলাইকুমুস সালাম'।
- পুরুষেরা পুরুষদের সঙ্গে হাত মেলান। বিপরীত লিঙ্গের কারও বেলায় দেখুন তিনি হাত বাড়ান কি না; বুকে হাত রেখে অভিবাদন জানানোই ভদ্র রীতি।
- খাওয়া, কিছু এগিয়ে দেওয়া আর কাপ নেওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার করুন।
- অভ্যর্থনায় কফি আর খেজুর দেওয়া হয়। অন্তত এক কাপ নিন; আর না চাইলে ফেরত দেওয়ার আগে কাপটা ডানে-বাঁয়ে একটু নাড়ান।
- কারও বাড়িতে দাওয়াত পেলে দরজায় জুতা খুলুন, আর মিষ্টির মতো ছোট কোনো উপহার নিয়ে যান।
ছবি, নামাজের সময় ও জনসমক্ষে আচরণ
- মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, বিশেষ করে নারী ও পরিবারের। সরকারি বা সামরিক ভবনের ছবি তুলবেন না।
- নামাজের সময়। দিনে পাঁচবার আজান হয়, আর কিছু দোকান কয়েক মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।
- জনসমক্ষে ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।
- মদ নিষিদ্ধ, মাদকও। কোনোটিই দেশে আনবেন না।
- রমজান। ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসমক্ষে খাওয়া, পান করা বা ধূমপান করবেন না। সন্ধ্যার পর শহর জমে ওঠে, রেস্তোরাঁ খোলা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত।
- সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার। শুক্রবার জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত চারদিক শান্ত থাকে।
ছোট ছোট যে বিষয় কাজে দেয়
হালকা একটি গরম কাপড় সঙ্গে রাখুন: ঘরের ভেতরে এসি বেশ ঠান্ডা, আর শীতে মরুভূমির রাত ঠান্ডা। কয়েকটি আরবি শব্দ শিখে নিন — 'শুকরান', মানে ধন্যবাদ, অনেক কাজে দেয়। আর সংশয় হলে জিজ্ঞেস করুন; সৌদিরা অতিথিতে অভ্যস্ত, বুঝিয়ে বলতে পেরে খুশিই হন। টাকাপয়সা, সিম কার্ড আর যাতায়াতের কথা আছে আমাদের ভ্রমণ নির্দেশিকায়, আর দৈনন্দিন আদবকায়দা নিয়ে আরও আছে স্থানীয় রীতিনীতি পাতায়।
প্রথম সফরের পরিকল্পনা করছেন? শুরু করুন প্রথমবারের এক সপ্তাহ: রিয়াদ আর জেদ্দা দিয়ে, অথবা দেখে নিন আপনার কোন ভিসা লাগবে।
সাধারণ প্রশ্ন
সৌদি আরবে নারীদের কি আবায়া পরতেই হয়?
না। বিদেশি নারীদের শালীন পোশাক পরতে বলা হয় — কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা ঢিলেঢালা কাপড় — তবে মসজিদ ও পবিত্র স্থানের বাইরে আবায়া বা হিজাব বাধ্যতামূলক নয়।
সৌদি আরবে পুরুষেরা কি শর্টস পরতে পারেন?
সাধারণ জনসমাগমের জায়গায় নয়। রাস্তা, শপিং মল ও রেস্তোরাঁয় ফুলপ্যান্টই প্রত্যাশিত; সৈকতে, রিসোর্টে আর খেলাধুলার সময় শর্টস চলে।
পর্যটকদের জন্য সৌদি আরব কি খুব কড়া?
নিয়মগুলো কঠোর নয়, স্পষ্ট: শালীন পোশাক পরুন, নামাজের সময় ও রমজানকে সম্মান করুন, আর মদ আনবেন না। যাঁরা এগুলো মেনে চলেন, তাঁরা মানুষকে বন্ধুবৎসল ও সহযোগী হিসেবেই পান।


