darbiya
darbiya
জিয়ারত · পড়তে ৩ মিনিট

মক্কার জিয়ারত: হেরা, সাওর আর হজের স্থানগুলো

হারামের বাইরে: জাবালে নুর ও হেরা গুহা, জাবালে সাওর, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফা, আর মক্কার জাদুঘরগুলো — সঙ্গে জিয়ারতের পরিকল্পনা।

প্রকাশিত ৩ অক্টোবর ২০২৬
মক্কার জাবালে নুর, যে পাহাড়ে হেরা গুহা

উমরাহ শেষ হওয়ার পরও বেশির ভাগ হাজির হাতে মক্কায় কয়েক দিন থাকে। সে সময়ের বড় অংশ হারামেরই প্রাপ্য — নামাজে, তাওয়াফে আর কোরআন তিলাওয়াতে। তবে এর চারপাশের শহরেই আছে সেই জায়গাগুলো, যেখানে ওহি নাজিল শুরু হয়েছিল আর যেখানে হজের আমলগুলো পালিত হয়; সেগুলো দেখে এক সকাল কাটালে ইতিহাস জীবন্ত হয়ে ওঠে। এটাই জিয়ারত। এর কোনোটিই উমরাহর আবশ্যিক অংশ নয়।

জাবালে নুর ও হেরা গুহা

হারাম থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের এই পাহাড়েই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কোরআনের প্রথম আয়াতগুলো নাজিল হয়। গুহাটি চূড়ার কাছে, খাড়া সিঁড়িপথের শেষে; উঠতে বেশির ভাগ মানুষের এক ঘণ্টা বা তার বেশি লাগে। ফজরের আগে বা বিকেলের শেষে যান, পানি সঙ্গে নিন, আর হৃদ্‌রোগ বা হাঁটুর সমস্যা থাকলে ওঠার চেষ্টা করবেন না; নিচ থেকে পাহাড়টি দেখাই যথেষ্ট। পাহাড়ের পাদদেশে হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে আছে ওহি নিয়ে প্রদর্শনী, কোরআন জাদুঘর, ক্যাফে আর ছায়া।

জাবালে সাওর

শহরের দক্ষিণে সেই পাহাড়, যার গুহায় হিজরতের — মদিনায় চলে যাওয়ার — সময় নবীজি ও আবু বকর (রা.) তিন রাত আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখানে ওঠা জাবালে নুরের চেয়ে দীর্ঘ ও কঠিন। বেশির ভাগ দল পাদদেশে থেমে ঘটনাটি শোনে, তারপর এগিয়ে যায়।

হজের স্থানগুলো

মক্কার পূর্বে সেই জায়গাগুলো, যেখানে হজের দিনগুলো কাটে। হজের মৌসুমের বাইরে এগুলো নিরিবিলি থাকে; ভবিষ্যতে হজে আসার আশা যাঁদের, জায়গাগুলো দেখে রাখা তাঁদের কাজে লাগে।

  • মিনা। সাদা তাঁবুতে ভরা উপত্যকা, হজের সময় হাজিরা যেখানে থাকেন; এখানেই জামারাত সেতু, যেখানে কঙ্কর নিক্ষেপ করা হয়।
  • মুজদালিফা। খোলা প্রান্তর, আরাফাতের পর হাজিরা যেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান।
  • আরাফাত। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনের ময়দান। দর্শনার্থীরা জাবালে রহমতের ছোট পাহাড়ে ওঠেন, আর কাছেই মসজিদে নামিরা দেখেন।

শহরের মসজিদ ও অন্যান্য জায়গা

  • তানঈমে মসজিদে আয়েশা। হারামের সীমানার বাইরের সবচেয়ে কাছের জায়গা। মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা আরেকটি উমরাহ করতে চাইলে এখান থেকেই ইহরাম বাঁধেন।
  • মসজিদে জিন ও জান্নাতুল মুআল্লা। একটি ঐতিহাসিক মসজিদ আর মক্কার প্রাচীন কবরস্থান, যেখানে নবীজির প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) শায়িত। দুটিই হারামের অল্প উত্তরে।
  • ক্লক টাওয়ার জাদুঘর। হারামের পাশের টাওয়ারে; এখানে আছে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সময় গণনা নিয়ে প্রদর্শনী, আর মসজিদের ওপর থেকে দেখার সুযোগ।
  • দুই পবিত্র মসজিদের স্থাপত্য প্রদর্শনী ও কিসওয়া কমপ্লেক্স। দুই মসজিদের পুরোনো দরজা, স্তম্ভ ও শিলালিপি, আর সেই কারখানা, যেখানে কাবার গিলাফ বোনা ও সূচিকর্ম করা হয়। পরিদর্শনের তথ্য আছে আমাদের জাদুঘর নির্দেশিকায়।

জিয়ারতের এক সকালের পরিকল্পনা

  • গাড়িতে আধা দিনই যথেষ্ট — জাবালে সাওর, আরাফাত, মুজদালিফা, মিনা আর জাবালে নুরের পাদদেশ ঘুরে আসতে। ফজরের পর বের হন, দুপুরের গরমের আগে ফিরে আসুন।
  • হেরা গুহায় ওঠার জন্য আলাদা সময় রাখুন। ঠান্ডা কোনো সকাল এর জন্য রেখে দিন।
  • নিজের ভাষার গাইড সঙ্গে নিন। আমাদের মক্কার বাংলাভাষী গাইড প্রতিটি জায়গা বুঝিয়ে দেন, আর আমাদের উমরাহ প্যাকেজে জিয়ারত অন্তর্ভুক্ত।
  • মনে রাখুন এই সফরগুলো কী। পাহাড় ও গুহাগুলো ইতিহাসের জায়গা, ইবাদতের নয়; সেখানে কোনো নামাজ বা আমল নির্ধারিত নেই।

মক্কার পর বেশির ভাগ হাজি মদিনায় যান: দেখুন মদিনার জিয়ারত আর আমাদের মক্কা গাইড।

সাধারণ প্রশ্ন

মক্কার জিয়ারতের জায়গা কোনগুলো?

প্রধান জায়গাগুলো হলো জাবালে নুর ও হেরা গুহা, জাবালে সাওর, মিনা, মুজদালিফা, আরাফাত ও জাবালে রহমত, মসজিদে আয়েশা, জান্নাতুল মুআল্লা আর শহরের জাদুঘরগুলো।

হেরা গুহায় উঠতে কত সময় লাগে?

বেশির ভাগ মানুষের উঠতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে, নামতে কিছুটা কম। পথ খাড়া, তাই ঠান্ডা সময়ে যান আর পানি সঙ্গে রাখুন।

মক্কা থেকে দ্বিতীয় উমরাহর ইহরাম কোথায় বাঁধব?

তানঈমের মসজিদে আয়েশায় — হারামের সীমানার বাইরের সবচেয়ে কাছের জায়গা, হারাম থেকে গাড়িতে অল্প পথ।

আরও গল্প

সব গল্প →