darbiya
darbiya
ভিসা · পড়তে ৩ মিনিট

উমরাহ ভিসা, নাকি ট্যুরিস্ট ভিসা? বাংলাদেশি হাজিদের জন্য কোনটি

বাংলাদেশি হাজিরা সাধারণত উমরাহ ভিসায় যান। ট্যুরিস্ট ই-ভিসা বা ফ্রি স্টপওভার ভিসা কখন কাজে লাগে, আর নতুন নিয়মগুলোর মানে কী।

প্রকাশিত ৩ অক্টোবর ২০২৬
মসজিদুল হারামের চত্বরে কাবা শরিফ

সৌদি আরব এখন সব ধরনের ভিসাধারীকেই উমরাহ করার সুযোগ দিচ্ছে। এতে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে, কারণ সব ভিসা সব পাসপোর্টের জন্য খোলা নয়। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা যাবেন, তাঁদের জন্য বাস্তবে পথ তিনটি। এই লেখায় প্রতিটি পথ, কে তা ব্যবহার করতে পারবেন, আর নতুন নিয়মগুলোর ব্যবহারিক মানে কী — তা বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেকোনো পাসপোর্টের তথ্য মিলিয়ে নিতে পারেন আমাদের সৌদি ভিসা চেকারে।

পথ ১: উমরাহ ভিসা

প্রায় সব বাংলাদেশি হাজি এই পথেই যান। উমরাহ ভিসা ইস্যু হয় নুসুক ব্যবস্থার মাধ্যমে, লাইসেন্সধারী উমরাহ এজেন্টের হাতে — হোটেল ও যাতায়াতের প্যাকেজের সঙ্গে।

  • মেয়াদ। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ভিসা ইস্যুর দিন থেকে এক মাসের মধ্যে তা ব্যবহার করতে হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবে না ঢুকলে ভিসা আপনা-আপনি বাতিল হয়ে যায়।
  • কত দিন থাকা যায়। পৌঁছানোর পর সর্বোচ্চ তিন মাস।
  • কখন পাওয়া যায় না। হজের আশপাশের সপ্তাহগুলোতে উমরাহ ভিসা দেওয়া হয় না।
  • যা লাগবে। অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট, ছবি, আর যাত্রার সময় আপনার দেশের যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য টিকা।

এক মাসের এই নিয়মের কারণে ফ্লাইটের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পরই ভিসার আবেদন করুন।

পথ ২: ট্যুরিস্ট ই-ভিসা

সৌদি ট্যুরিস্ট ই-ভিসায় হজের মৌসুমের বাইরে উমরাহ করা যায়, তবে যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। তবু নিচের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আবেদন করতে পারেন:

  • আপনার কাছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা শেনজেন এলাকার বৈধ ভিসা আছে, যা অন্তত একবার ব্যবহার করা হয়েছে;
  • আপনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশের স্থায়ী বাসিন্দা;
  • আপনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কোনো দেশের বাসিন্দা।

ই-ভিসার মেয়াদ এক বছর, একাধিকবার প্রবেশ করা যায়, আর প্রতিবার সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। উমরাহর পারমিট নিজেই নুসুক অ্যাপে বুক করবেন। বিস্তারিত আছে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা পাতায়।

পথ ৩: ফ্রি স্টপওভার ভিসা

সৌদিয়া বা ফ্লাইনাসে সৌদি আরব হয়ে অন্য কোনো দেশে গেলে টিকিটের সঙ্গে স্টপওভার ভিসা যোগ করা যায়। এতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা থাকা যায় — নুসুক পারমিট নিয়ে উমরাহ করা আর মদিনা ঘুরে আসার জন্য যথেষ্ট। ভিসা নিজে ফ্রি; সামান্য বিমা ও সার্ভিস ফি লাগে।

কোনটি বেছে নেবেন?

  • বাংলাদেশ থেকে উমরাহয় গেলে: প্যাকেজসহ উমরাহ ভিসা। এটিই সবচেয়ে সহজ পথ, আর হোটেল ও যাতায়াতের দায়িত্ব এজেন্টের।
  • ব্যবহৃত মার্কিন, ব্রিটিশ বা শেনজেন ভিসা থাকলে, কিংবা উপসাগরীয় দেশে থাকলে: ই-ভিসায় এক বছরের স্বাধীনতা পাবেন, আর উমরাহর সঙ্গে দেশের বাকি অংশও ঘুরে দেখতে পারবেন।
  • জেদ্দা, রিয়াদ বা মদিনা হয়ে অন্য কোথাও গেলে: স্টপওভার ভিসা একটি ট্রানজিটকেই ছোট্ট উমরাহ সফরে বদলে দেয়।

যে ভিসাই থাকুক, উমরাহ করতে আর মদিনায় রওজায় নামাজ পড়তে নুসুক অ্যাপের পারমিট লাগবে। এর কোনো ভিসাই হজের জন্য বৈধ নয়।

darbiya যেভাবে সাহায্য করে

আমাদের উমরাহ প্যাকেজে ভিসা অন্তর্ভুক্ত, আর টাকা দেওয়ার আগে আমাদের টিম আপনার পাসপোর্টের জন্য প্রযোজ্য শর্তগুলো নিশ্চিত করে। আগে থেকেই ভিসা থাকলে শুধু দরকারি হোটেল আর যাতায়াত নিয়ে নিজের উমরাহ নিজেই সাজিয়ে নিতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশিরা কি সৌদি ট্যুরিস্ট ভিসা পান?

সরাসরি নয়, কারণ ই-ভিসার তালিকায় বাংলাদেশ নেই। তবে ব্যবহৃত মার্কিন, ব্রিটিশ বা শেনজেন ভিসা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইইউতে স্থায়ী বসবাস, অথবা জিসিসি দেশে বসবাসের অনুমতি থাকলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ট্যুরিস্ট ই-ভিসা পেতে পারেন।

উমরাহ ভিসার মেয়াদ কত দিন?

ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে ভিসা ব্যবহার করতে হয়, আর পৌঁছানোর পর সর্বোচ্চ তিন মাস থাকা যায়।

ভিজিট বা ট্যুরিস্ট ভিসায় কি উমরাহ করা যায়?

হ্যাঁ। ট্যুরিস্ট, ফ্যামিলি ভিজিট ও ট্রানজিটসহ সব ধরনের ভিসাধারী হজের মৌসুমের বাইরে নুসুক পারমিট নিয়ে উমরাহ করতে পারেন।

আরও গল্প

সব গল্প →