কেন এটি সম্মানিত
- ফজিলত: আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী ﷺ বলেছেন, তাঁর মিম্বর তাঁর হাউজের (আল-হাউজ) ওপর অবস্থিত।
- সতর্কবাণী: জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে তিনি সতর্ক করেছেন, যে তাঁর মিম্বরের কাছে মিথ্যা শপথ করে সে জাহান্নামে তার আসন ঠিক করে নিল — তা একটি কাঁচা মিসওয়াকের মতো সামান্য বিষয়ে হলেও।
প্রথম মিম্বর যেভাবে তৈরি হলো
- শুরুতে নবী ﷺ দাঁড়িয়ে দীর্ঘ খুতবা দিতেন, একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে।
- মদিনার এক ব্যক্তি তাঁর বসার জন্য একটি মিম্বর বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, নবী ﷺ রাজি হন। ইবনে হাজারের উল্লেখ অনুযায়ী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় কাঠমিস্ত্রির নাম মাইমুন।
- নবী ﷺ নতুন মিম্বরে উঠলে সাহাবিরা শুনলেন খেজুর কাণ্ডটি উটনীর মতো কাঁদছে, যতক্ষণ না তিনি তাতে হাত রাখলেন আর সেটি শান্ত হলো (বুখারি, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে)।
মিম্বরের মাপ
ইবনুন নাজ্জারের বর্ণনায় নবী ﷺ-এর মিম্বর ছিল প্রায় দুই হাত, এক বিঘত ও তিন আঙুল উঁচু এবং এক হাত চওড়া; হেলান দেওয়ার অংশ এক হাত উঁচু, আর বসার সময় নবী ﷺ যে দুটি হাতল ধরতেন সেগুলো এক বিঘত ও দুই আঙুল লম্বা। এতে ছিল দুটি ধাপ ও একটি আসন।
ইতিহাসে মিম্বর
| কখন | কী হয়েছিল |
|---|---|
| নবী ﷺ ও খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগ | দুটি ধাপ ও একটি আসন। |
| উমাইয়া যুগ | মুআবিয়া (রা.)-এর খিলাফতকালে মারওয়ান ইবনুল হাকাম ছয়টি ধাপ যোগ করেন — মোট নয়টি। |
| আব্বাসি যুগ | পুরোনো হয়ে যাওয়ায় নতুন করা হয়। |
| ৬৫৬ হিজরি | মসজিদ ও মিম্বর আগুনে পুড়ে যায়; বাদশাহ আল-মুজাফফর নতুন মিম্বর পাঠান। |
| ৬৬৪ হিজরি | সুলতান আজ-জাহির বাইবার্স মিম্বর পাঠান, যা ৭৯৭ হিজরি পর্যন্ত ছিল। |
| ৭৯৭ হিজরি | সুলতান আজ-জাহির বারকুক নতুন মিম্বর পাঠান। |
| ৮২০ হিজরি | সুলতান আল-মুআইয়াদ শায়খ নতুন মিম্বর পাঠান। |
| ৮৮৬ হিজরি | আবার আগুন; মদিনাবাসী ইট দিয়ে মিম্বর বানান। |
| ৮৮৮ হিজরি | সুলতান আল-আশরাফ কায়েতবাই মার্বেলের মিম্বর পাঠান। |
| ৯৯৮ হিজরি | উসমানীয় সুলতান মুরাদ কারুকাজ করা মার্বেলের মিম্বর পাঠান — বারোটি ধাপ (দরজার বাইরে তিনটি, ভেতরে নয়টি), চার স্তম্ভের ওপর সূচালো গম্বুজ। এটিই আজকের মিম্বর। |
