জেদ্দার পুরোনো প্রাণকেন্দ্র আল-বালাদে এক দিন
জেদ্দার ইউনেসকো-স্বীকৃত পুরোনো শহর আল-বালাদে হেঁটে এক দিন: প্রবাল-পাথরের বাড়ি, নাসিফ হাউস, সুক আর সূর্যাস্তে কর্নিশ — পথনির্দেশসহ।
হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রপথে আসা হাজিরা জেদ্দায় নেমে এর পুরোনো শহরের ভেতর দিয়ে মক্কার পথে রওনা দিতেন। সেই শহরই আল-বালাদ। খোদাই করা কাঠের বারান্দায় ছায়াঘেরা প্রবাল-পাথরের উঁচু বাড়িগুলোর জন্যই ইউনেসকো ২০১৪ সালে 'ঐতিহাসিক জেদ্দা, মক্কার প্রবেশদ্বার'কে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নিয়েছে। আজও অনেক হাজি জেদ্দায় নামেন। উমরাহর আগে বা পরে একটা দিন ফাঁকা থাকলে এখানে কাটান।
আল-বালাদ কেন গুরুত্বপূর্ণ
সপ্তম শতাব্দীতে জেদ্দা মক্কার বন্দর হয়ে ওঠে; হাজি আর লোহিত সাগরের বাণিজ্যে আল-বালাদ সমৃদ্ধ হয়। বণিকেরা প্রবালপ্রাচীর থেকে কাটা প্রবাল-পাথরের ব্লকে টাওয়ার-বাড়ি বানাতেন, আর তাতে বসাতেন 'রোশান' — সামনে বেরিয়ে থাকা কাঠের জালি-জানালা, যা সমুদ্রের হাওয়া টেনে আনে আর ঘরের আড়াল বজায় রাখে। এমন শত শত বাড়ি আজও টিকে আছে, অনেকগুলোর সংস্কার চলছে।
এক দিনের হাঁটার পথ
সকালের শেষ ভাগ — বাব মক্কা থেকে শুরু। পুরোনো এই ফটক প্রাচীরঘেরা শহরের পূর্ব প্রান্তে, মক্কার পথের মুখে। এখান থেকে রাস্তা ঢুকে গেছে খাবার ও মসলার বাজারে — যে ফটক দিয়ে একসময় কাফেলা রওনা দিত, সেই আমল থেকেই জায়গাটা ক্রেতায় সরগরম।
দুপুর — নাসিফ হাউস। আল-বালাদের সবচেয়ে পরিচিত বাড়ি, এক বণিক পরিবারের জন্য ১৮৮১ সালে নির্মাণ শেষ হয়। ১৯২৫ সালে জেদ্দায় প্রবেশের পর বাদশাহ আবদুল আজিজ এখানেই উঠেছিলেন। এখন এটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
বিকেল — পুরোনো গলিপথ। পুরোনো শহরের বুক চিরে যাওয়া দীর্ঘ বাজার-সড়ক সুক আল-আলাউই ধরে হাঁটুন, আর ওপরে তাকান: সবচেয়ে সুন্দর রোশানগুলো চোখের উচ্চতার ওপরে। থামুন জেদ্দার সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ আল-শাফেয়িতে; এর মিনার ত্রয়োদশ শতাব্দীর। পথে পথে সংস্কার করা বাড়িগুলোতে জাদুঘর, গ্যালারি আর ক্যাফে খুলেছে।
সন্ধ্যা — আল-বালাদ যখন জেগে ওঠে। সূর্যাস্তের পর গরম কমলে পরিবারগুলো খেতে বের হয়, পুরোনো শহর তখনই সবচেয়ে প্রাণবন্ত। বালিলা আর মুতাব্বাকের মতো পথের খাবার চেখে দেখুন। আমাদের আল-বালাদে সন্ধ্যার হাঁটা-ভ্রমণ স্থানীয় গাইডের সঙ্গে আপনাকে গলি আর খাবারের দোকানগুলো ঘুরিয়ে দেখায়।
সঙ্গে সমুদ্রটাও
জেদ্দার জীবন তার কর্নিশ ঘিরে। আল-বালাদ থেকে ট্যাক্সিতে অল্প দূরেই সমুদ্রতীর — হাঁটার পথ, ভাস্কর্য আর কিং ফাহদ ফোয়ারা, যার সমুদ্রের পানির ধারা রাতে আলোয় সাজে আর শহরের নানা প্রান্ত থেকে দেখা যায়। আরেক দিন হাতে থাকলে উত্তরে ওবহুরে চলে যান, প্রবালপ্রাচীরে স্নরকেলিং করতে।
কাজের পরামর্শ
- কখন যাবেন। নভেম্বর থেকে মার্চ মনোরম মৌসুম। গ্রীষ্মে সূর্যাস্তের পর আসুন; দুপুর গরম আর আর্দ্র।
- শুক্রবার। জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত অনেক দোকান বন্ধ থাকে; সন্ধ্যায় ভিড় হয়।
- কী পরবেন। হালকা, শালীন পোশাক আর আরামদায়ক জুতা, কারণ গলিগুলো উঁচু-নিচু। দেখুন সৌদি আরবে কী পরবেন।
- কীভাবে যাবেন। কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আল-বালাদ গাড়িতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। ট্যাক্সি বা রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করুন।
- কোথায় থাকবেন। সংস্কার করা কয়েকটি বাড়িতে এখন অতিথি রাখা হয়; বেশির ভাগ হোটেল কর্নিশ ধরে। শুরু করুন আমাদের জেদ্দা গাইড দিয়ে।
সাধারণ প্রশ্ন
আল-বালাদ কি ঘুরে দেখার মতো?
হ্যাঁ। এটি লোহিত সাগর উপকূলের সবচেয়ে ভালোভাবে টিকে থাকা পুরোনো শহরগুলোর একটি এবং ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য; ঘুরে দেখতে কোনো টাকা লাগে না। প্রধান রাস্তাগুলোর জন্য আধা দিনই যথেষ্ট; পুরো দিন থাকলে একটি জাদুঘর আর সন্ধ্যার খাবারের দোকানগুলোও যোগ করা যায়।
আল-বালাদ ঘোরার সেরা সময় কখন?
নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে, বিকেলের শেষ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সূর্যাস্তের আগে ছবি তোলার আলো ভালো থাকে, আর অন্ধকার নামার পর বাজার ও খাবারের দোকানগুলো সবচেয়ে জমজমাট।
আল-বালাদ থেকে মক্কা কত দূর?
প্রায় ৮০ কিলোমিটার, সড়কপথে মোটামুটি এক ঘণ্টা। জেদ্দার আল-সুলাইমানিয়া স্টেশন থেকে হারামাইন ট্রেনে মক্কা পৌঁছাতে লাগে আধা ঘণ্টার মতো।



